উত্তরের হিমেল বাতাস ও হালকা কুয়াশায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের অনুভূতি বাড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলাটিতে চলতি মৌসুমের মধ্যে শীতের আমেজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এদিন সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তেঁতুলিয়ার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কার্যালয় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করে।
সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হালকা কুয়াশার মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ছে। বাতাসে অনুভূত হচ্ছে শীতের পরশ। জীবিকার তাগিদে ভোর থেকেই কাজে বেরিয়ে পড়ছেন শ্রমজীবী মানুষ। দিনমজুর, পাথর ও চা শ্রমিক, ভ্যানচালক এবং কৃষকদের সকাল সকাল কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। রাত গভীর হলে এবং ভোরের দিকে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়। এ সময় গায়ে কাঁথা নিতে হচ্ছে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পঞ্চগড়ে শীতের আগমন কিছুটা আগেই ঘটে। অক্টোবর থেকেই শীতের আমেজ শুরু হলেও নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীতের তীব্রতা বাড়ে।
শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন বাজারে দেখা যাচ্ছে মৌসুমি পিঠার আয়োজন। ভাপা, চিতই ও পাকান পিঠা বিক্রি শুরু হয়েছে বিভিন্ন স্থানে।
এদিকে দিনে তুলনামূলক গরম এবং রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শীতজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে হিমেল বাতাস এবং হালকা কুয়াশার প্রভাবে তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। একই সঙ্গে শীতের অনুভূতিও ধীরে ধীরে বাড়ছে।